খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক অংশীজনদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন.
ডেঙ্গুরোগের লাগাম টেনে ধরতে এবং এর বিস্তার রোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক বিশেষ আন্তঃঅংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় স্বাস্থ্য খাতসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। সভার শুরুতেই বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, কেবল প্রশাসনিক নজরদারি নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন এবং এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সফল করার জন্য খুলনা বিভাগের সকল জেলার প্রশাসনকে এখনই সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সভায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার জেলা প্রশাসকগণ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির রূপরেখা তুলে ধরেন। মাঠপর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের স্থবিরতা ও সমন্বয়হীনতার চিত্র উঠে আসে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: মোশাররফ হোসেন এবং রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো: সাজ্জাদুর রহমান রাসেলসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালকগণ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর চাপ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সিপিপি, স্কাউটস এবং রোভার স্কাউটের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের যুক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মতামত ও মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিভাগীয় কমিশনার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নামে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, মশারি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ডেঙ্গু চিকিৎসায় গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতালগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির আগে খুলনা অঞ্চলের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিশেষে, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধুমাত্র একটি মৌসুমী সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি এবং এর স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবক পর্যন্ত সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ডেঙ্গু সচেতনতা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে না পারলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আসন্ন ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত দেশব্যাপী উদ্বোধনী কার্যক্রম খুলনায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ডেঙ্গু বিস্তার রোধেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।




