অশ্রুসিক্ত বিদায়ে নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের দুর্গা বিসর্জন লঙ্গন নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা, আবেগাপ্লুত নারী-পুরুষ ও শিশুরা

বিদায়ের সুরে বিষাদময় পরিবেশ, চোখভরা অশ্রু আর বুকভরা ভালোবাসা—এমন আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাতৃকা সংঘের প্রতিমা বিসর্জন। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে লঙ্গন নদীর তীরে জড়ো হন শত শত দর্শনার্থী। নারী, পুরুষ ও শিশুদের চোখেমুখে ছিল বিষাদের ছাপ। প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর সময় অনেকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। নদীতীরে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।
বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে নদীর তীরে ভক্তদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। বিশেষ করে নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। কারও প্রার্থনায় ছিল পরিবারের সুখ-শান্তি, কারও কামনায় সুস্থতা ও সমৃদ্ধি, আবার কারও আকুতি ছিল—আগামী বছর যেন মা আবারও ফিরে আসেন একই আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে। মোমবাতির আলো, অশ্রুসিক্ত চোখ আর নীরব প্রার্থনায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে গভীর আবেগের প্রতিচ্ছবি।
দেবীকে বিদায় জানানোর সময় নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। কয়েক দিনের উৎসব, আনন্দ, পূজা-অর্চনা ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের পর বিদায়ের এই ক্ষণ যেন কারও মনই মানতে চাইছিল না। ঢাকের বাদ্য আর বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও বারবার অনুভূত হচ্ছিল বিচ্ছেদের বেদনা। ভক্তদের চোখের জল যেন নীরবে বলে দিচ্ছিল—দেবীর বিদায় মানে শুধু একটি ধর্মীয় আচার শেষ হওয়া নয়, বরং হৃদয়ের গভীরে লালন করা এক আবেগময় সম্পর্কের সাময়িক বিরতি।
নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের এই বিসর্জনকে ঘিরে লঙ্গন নদীর তীরে ভক্তি, আবেগ ও প্রার্থনার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। শত শত দর্শনার্থী উপস্থিত থেকে দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন। মোমবাতি হাতে নারীদের প্রার্থনা এবং নারী-পুরুষ-শিশুদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। প্রতিবছর শরতে মর্ত্যে আগমন এবং পূজা শেষে কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের ধর্মীয় পর্ব সম্পন্ন হয়। বিসর্জনের মুহূর্তে তাই যেমন থাকে বিচ্ছেদের বেদনা, তেমনি থাকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা।
লঙ্গন নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যে, কিন্তু হৃদয়ে রয়ে যায় বিষাদমাখা স্মৃতি। চোখের জল মুছে তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন আগামী শরতের—যখন আবারও ঢাকের বাদ্য বাজবে, পূজামণ্ডপে জ্বলবে আলোর মালা, আর ভক্তদের মাঝে ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা।
লঙ্গন নদীর তীরে মোমবাতির আলো আর অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের বিসর্জন হয়ে রইল ভালোবাসা, ভক্তি ও বিদায়বেলার গভীর অনুভূতির এক স্মরণীয় অধ্যায়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

অশ্রুসিক্ত বিদায়ে নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের দুর্গা বিসর্জন লঙ্গন নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা, আবেগাপ্লুত নারী-পুরুষ ও শিশুরা

বিদায়ের সুরে বিষাদময় পরিবেশ, চোখভরা অশ্রু আর বুকভরা ভালোবাসা—এমন আবেগঘন

Scroll to Top