
ডুমুরিয়ায় ১০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০ দিনের কারাদণ্ড
খুলনার ডুমুরিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১০ গ্রাম গাঁজাসহ রফিকুল গোলদার নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে

খুলনার ডুমুরিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১০ গ্রাম গাঁজাসহ রফিকুল গোলদার নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে

খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রভাবশালীদের দখল ও ইজারার কবলে থাকা হাতিটানা নদী জনস্বার্থে উন্মুক্ত করার দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়ার শাহপুরে আন্তর্জাতিক গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আলোচনা সভা ও সাহিত্য আড্ডা, যেখানে সাহিত্য চর্চাকে বেগবান করতে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়.. খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে আন্তর্জাতিক গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ও প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহঃবার সকাল ১০টায় শাহপুরে গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজনরা একত্রিত হন। মূলত একটি জাতির সামগ্রিক মননশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যা ডুমুরিয়ার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের শাহপুর শাখার সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মণ্ডল এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানকে আলোকিত করেন গাঙচিলের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, কবি ও সাহিত্যিক খান আখতার হোসেন। এছাড়া গাঙচিল সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জীর সুনিপুণ সঞ্চালনায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি একটি সফল মিলনমেলায় রূপ নেয়, যেখানে উপস্থিত সকলে সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে উন্মুক্তভাবে নিজেদের মতামত ও ভাবনা ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একটি জাতির আত্মিক শক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে দূরে রেখে বই, কবিতা, সাহিত্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এই ধরনের নিয়মিত সাহিত্যিক আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতাবোধ তৈরিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তাপস সাহা, আশরাফ আলী গোলদার, ইকবাল হোসেন বিশ্বাস, সুভাষ চন্দ্র রায়, অসীম কুমার সাহা, বিএম আব্দুল গফুর, কবি সুমন বিপ্লব, কল্যাণাশীষ মজুমদার এবং বাহারুল ইকবালসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের বক্তব্যে স্থানীয় পর্যায়ে সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং গ্রামীণ জনপদে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেওয়ার জোরালো তাগিদ উঠে আসে, যা উপস্থিত তরুণ ও উদীয়মান লেখকদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই সভা থেকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় সাহিত্য ও শিক্ষা অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য গাঙচিলের ১৯৯তম সাহিত্য সম্মেলনে শাহপুর শাখার সদস্যদের জোরালো উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে উত্তর ডুমুরিয়া এলাকার কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের সাফল্যকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে উপস্থিত সকল সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত সাহিত্য আড্ডায় কবি ও লেখকরা স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা তত্ত্ব নিয়ে ভাবের আদান-প্রদান করেন, যা পুরো পরিবেশকে এক আনন্দঘন ও মননশীল আবেশে ভরিয়ে তোলে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সভার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও শাহপুরে নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। এই ধরনের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলো সামগ্রिक সমাজ গঠনে এবং সুস্থ ধারার বিনোদন প্রসারে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে থাকে। ডুমুরিয়ার মতো মফস্বল এলাকায় এ ধরণের আয়োজন কেবল স্থানীয় কবি ও লেখকদের সৃজনশীলতার বিকাশই ঘটাচ্ছে না, বরং সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করে একটি আলোকিত প্রজন্ম তৈরিতেও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। আন্তর্জাতিক গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের এই শাহপুর শাখা যেভাবে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তা অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই সংগঠনের হাত ধরে স্থানীয় সাহিত্য অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন লেখকরা তাদের মেধা বিকশিত করার একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পাবে বলে সুধীজনরা আশা প্রকাশ করছেন। সমাজ বিনির্মাণে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই নিরলস সাধনা স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট সকলের।

একাধিক সদস্যের ক্ষেত্রে একটিমাত্র ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে, তবে ২০২৭ সালের হজে নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বহুমুখী সুবিধা তুলে ধরে আলোচকরা জানান যে, এই মাধ্যমে হজ সম্পন্ন করা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যেকোনো ধরনের দালালচক্রের ঝুঁকিযুক্ত হয়রানি থেকে মুক্ত। সরকারি হজ প্যাকেজের অব্যয়িত বা অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি হজযাত্রীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত প্রদান করা হয়, যা সরকারি ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করে। তবে হজের সামগ্রিক শারীরিক ধকল ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, মেডিকেল ফিটনেস বা স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা যাচাই ব্যতিরেকে কোনো অবস্থাতেই কোনো হজযাত্রীকে হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। অতীতে বিভিন্ন সময় বেসরকারি এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে হজযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো, যার সরাসরি প্রভাব পড়তো সাধারণ তীর্থযাত্রীদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর। সরকারি ব্যবস্থাপনার এই সুনির্দিষ্ট কর্মশালা এবং কড়াকড়ি নজরদারির ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনি একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পথ সুগম হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের এই কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকাগুলো মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজকরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিশেষে, খুলনা অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না, এটি ছিল ২০২৭ সালের হজ যাত্রাকে ত্রুটিহীন ও জনবান্ধব করার একটি সুদূরপ্রসারী প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সময়মতো নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজতর করা এবং স্বাস্থ্যগত ফিটনেস নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে হজ খাতের সামগ্রিক মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত থাকলে সাধারণ হজযাত্রীরা দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পাবে এবং ধর্মীয় এই পবিত্র দায়িত্ব অত্যন্ত নির্বিঘ্নে পালন করতে সক্ষম হবে। এই ধরনের আঞ্চলিক কর্মশালা জাতীয় পর্যায়ে হজ ব্যবস্থাপনার ভুলত্রুটি শুধরে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

খুলনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সুশাসনের পথ মসৃণ করতে যেকোনো বাধা কঠোরহস্তে দমন করা হবে এবং সাইবার সুরক্ষা ও মাদক নির্মূলে নতু.. রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে সুশাসনের পথে তৈরি হওয়া যেকোনো ধরনের অন্তরায় বা বাধা আইনগতভাবে দূর করা হবে। খুলনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা তুঙ্গে রয়েছে। মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বহুমুখী সংকট মোকাবেলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় মন্ত্রী বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানান যে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য এবং কোনো বিশেষ মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকারের বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট জটিলতাগুলো নিরসনে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এই সভায়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের তৈরি করা বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়, যার ফলে বর্তমান সরকারকে পরিস্থিতির বাস্তবতায় কিছুটা সময় দিতে হবে। তিনি জানান, জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। একই সাথে সমাজের ধর্মীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের নিয়মিত ভাতা প্রদানের বিষয়টিও তিনি দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেন। তবে মাঠপর্যায়ে এসব কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতি এখনও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে স্থানীয় অংশীজনদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, যা দূর করার জন্য কঠোর তদারকির দাবি জানানো হয়েছে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক অপরাধ দমনে সরকারের আইনগত পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে সাইবার সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সকল অংশীজনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষে আধুনিক ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই আইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সমাজে মাদকের বিস্তার ও জুয়ার মরণনেশা রোধে বিদ্যমান আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন যে সরকার কোনো ধরনের অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক সৃষ্টি না করে বরং সরকারের গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের এই নীতি বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। খুলনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করার এখনই উপযুক্ত সময়। এই সভার মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে মূলত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূলের সুশাসন নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখার মধ্যে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এই অঙ্গীকার যদি কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে, সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

খুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হজ পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তা.. সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আজ খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ ও শতভাগ ঝামেলামুক্ত হজ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। গত ২০২৬ সালের হজ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই ধারাবাহিকতা ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমেও বজায় রাখতে হবে। একই সাথে তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল ধর্মের প্রতি সম্মান এবং ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন, যা প্রশাসনিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ব্যবস্থাপনার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে সরকারি চ্যানেলে হজযাত্রী নিবন্ধন ত্বরান্বিত করা। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: কামরুল হাসান প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত অনুষ্ঠানটিকে বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন খুলনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, যেখানে খুলনা বিভাগের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার আলোচনা সভায় ২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা, অনলাইন প্রাক-নিবন্ধন এবং অর্থ জমাদানের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি সরকার ঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ২০২৭ সালের হজ গমনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিবন্ধনের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এছাড়া, হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি ২০২৭ এবং নির্ধারিত হজ ফ্লাইট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৮ এপ্রিল ২০২৭ থেকে। সরকারিভাবে হজ গমনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় খুব সহজেই নিবন্ধনের নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে পারবেন বলে জানানো হয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ করতে হজ পোর্টালে ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সরাসরি সরকারিভাবে প্রাক-নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কেবল ঢাকা হজ ক্যাম্প কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসসমূহ নয়, বরং উপজেলা মডেল মসজিদ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) থেকেও খুব সহজেই নিবন্ধনের ভাউচার সংগ্রহ করার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হজযাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট অথবা জন্ম সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর আবশ্যিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। বিশেষ সুবিধার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্ষেত্রে একটিমাত্র ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে, তবে ২০২৭ সালের হজে নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বহুমুখী সুবিধা তুলে ধরে আলোচকরা জানান যে, এই মাধ্যমে হজ সম্পন্ন করা সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যেকোনো ধরনের দালালচক্রের ঝুঁকিযুক্ত হয়রানি থেকে মুক্ত। সরকারি হজ প্যাকেজের অব্যয়িত বা অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি হজযাত্রীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত প্রদান করা হয়, যা সরকারি ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করে। তবে হজের সামগ্রিক শারীরিক ধকল ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, মেডিকেল ফিটনেস বা স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা যাচাই ব্যতিরেকে কোনো অবস্থাতেই কোনো হজযাত্রীকে হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। অতীতে বিভিন্ন সময় বেসরকারি এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে হজযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো, যার সরাসরি প্রভাব পড়তো সাধারণ তীর্থযাত্রীদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর। সরকারি ব্যবস্থাপনার এই সুনির্দিষ্ট কর্মশালা এবং কড়াকড়ি নজরদারির ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনি একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পথ সুগম হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের এই কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকাগুলো মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজকরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিশেষে, খুলনা অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না, এটি ছিল ২০২৭ সালের হজ যাত্রাকে ত্রুটিহীন ও জনবান্ধব করার একটি সুদূরপ্রসারী প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সময়মতো নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজতর করা এবং স্বাস্থ্যগত ফিটনেস নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে হজ খাতের সামগ্রিক মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত থাকলে সাধারণ হজযাত্রীরা দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পাবে এবং ধর্মীয় এই পবিত্র দায়িত্ব অত্যন্ত নির্বিঘ্নে পালন করতে সক্ষম হবে। এই ধরনের আঞ্চলিক কর্মশালা জাতীয় পর্যায়ে হজ ব্যবস্থাপনার ভুলত্রুটি শুধরে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আকস্মিক ভেজালবিরোধী অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে একটি বেকারি সিলগালা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা.. খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল ও আন্দুলিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার এলাকায় ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নগদ ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার চরম পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে মিকশিমিল এলাকার সাদিয়া ফুড নামক একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় বাজারে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা, যা জনস্বার্থের সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মিকশিমিল ও আন্দুলিয়া বাজারের বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, অবৈজ্ঞানিক ও নোংরা পরিবেশে বেকারিপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিকশিমিল বিসমিল্লাহ বেকারির মোস্তাক আহমেদকে ৫ হাজার টাকা, লিঠু গাজীকে ২ হাজার টাকা এবং আন্দুলিয়া এলাকার খোরশেদ আলম গাজীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে এই অর্থ আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব এবং সংশ্লিষ্ট স্যানিটারি ইন্সপেক্টরগণ সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। প্রশাসনের এই যৌথ টিম সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দেখতে পায় যে, বেকারিগুলোতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং খাদ্য উৎপাদনে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের জীবন ও স্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি প্রতারণার শামিল। খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল রোধে প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও যৌথ অভিযানকে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, কেবল মাঝেমধ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, বরং নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। খাদ্যে ভেজাল প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বেকারি বা খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক কড়াকড়ি ও ভেজালবিরোধী তৎপরতা অসাধু ব্যবসায়ীদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা সার্বিক বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে বেকারি সিলগালা এবং আর্থিক দণ্ডের এই ঘটনা অন্যান্য বেকারি ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য একটি শক্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা কেবল ডুমুরিয়ার ভোক্তাদেরই সুরক্ষা দেবে না, বরং গোটা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নে শোলগাতিয়া হদেআমতলা বাজার থেকে রাজবংশীপাড়া সরকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ১৫০০ ফুট দীর্ঘ ইটের সলিং রাস্তাটি বেহাল

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক অংশীজনদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন. ডেঙ্গুরোগের লাগাম টেনে ধরতে এবং এর বিস্তার রোধে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক বিশেষ আন্তঃঅংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় স্বাস্থ্য খাতসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। সভার শুরুতেই বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, কেবল প্রশাসনিক নজরদারি নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন এবং এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সফল করার জন্য খুলনা বিভাগের সকল জেলার প্রশাসনকে এখনই সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সভায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার জেলা প্রশাসকগণ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির রূপরেখা তুলে ধরেন। মাঠপর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের স্থবিরতা ও সমন্বয়হীনতার চিত্র উঠে আসে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: মোশাররফ হোসেন এবং রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো: সাজ্জাদুর রহমান রাসেলসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালকগণ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর চাপ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সিপিপি, স্কাউটস এবং রোভার স্কাউটের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের যুক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মতামত ও মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিভাগীয় কমিশনার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নামে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, মশারি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ডেঙ্গু চিকিৎসায় গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতালগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির আগে খুলনা অঞ্চলের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধুমাত্র একটি মৌসুমী সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি এবং এর স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবক পর্যন্ত সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ডেঙ্গু সচেতনতা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে না পারলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আসন্ন ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত দেশব্যাপী উদ্বোধনী কার্যক্রম খুলনায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ডেঙ্গু বিস্তার রোধেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ডুমুরিয়ায় মিকশিমিল রুদাঘরা উচ্চ বিদ্যালয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি রোধ ও পড়াশোনায় মনোযোগ ফেরাতে এক বিশেষ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সন্তানদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়ার মিকশিমিল রুদাঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত নবম শ্রেণির অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান মোবাইল আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে তাদের মেধা ও মনন ধ্বংসের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে আধুনিক প্রযুক্তি বিশেষ করে স্মার্টফোন, যা রোধ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সমাবেশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মূলত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এবং তাদের বিপথগামিতা রোধ করার একটি যৌথ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কী কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে এবং এর পেছনে আধুনিক প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার কতটা দায়ী, তা নিয়েই মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ সভার সূত্রপাত ঘটেছিল, যা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সমাবেশে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে উদ্বেগের কথা জানান এবং নিজেদের অসহায়ত্ব ও করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। অভিভাবক আলী মুনসুর ও আংশ মণ্ডল তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলের মেধার অপচয় ও মোবাইল প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন যে পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো হওয়া সত্ত্বেও ডিভাইস প্রীতির কারণে তার সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনুরূপভাবে পড়ালেখার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান যে কেবল বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং ঘরে ফিরে সন্তানরা কী করছে এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের পেছনে কত সময় নষ্ট করছে তার নিয়মিত খোঁজ নেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব। বক্তারা এ সময় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে বর্তমান যুগে অভিভাবকরা অনেক সময় নিজেদের ব্যস্ততা দেখাতে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন সর্বনাশা ডিভাইস, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীরা স্থায়ীভাবে দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের সামাজিক আচরণেও নেতিবাচক পরিবর্তন আসছে। কেবল শাসন নয়, বরং পারিবারিক অনুশাসন ও মেন্টরিংয়ের অভাবই যে আজকের এই তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তার একটি নিখুঁত চিত্র উঠে আসে এসব অভিভাবকের বক্তব্যে। এই সার্বিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত মোঃ জামাল, শ্রেণিশিক্ষক প্রভাস সাহা ও সহকারী শিক্ষক সুলতানা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মোঃ রাজ্জাক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে শিক্ষক প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কেবলমাত্র বিদ্যালয়ের ৪২ মিনিটের ক্লাসরুম শিক্ষায় কখনোই একটি শিশুর নৈতিক ও একাডেমিক পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়, যদি না পরিবার থেকে তাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। শিক্ষকরা অভিভাবকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান যাতে অপ্রয়োজনে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া না হয় এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে কি না সে বিষয়েও যেন কড়া নজরদারি বজায় থাকে। এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এই সভায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডুমুরিয়ার এই বিদ্যালয়কেন্দ্রিক