খুলনার ডুমুরিয়া ও যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধ বিল খুকশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে চাষাবাদ।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোলগাতিয়া, রুদাঘরা ও ধামালিয়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হরি নদীর তীরে অবস্থিত বিল খুকশে। প্রায় ২১ বছর ধরে এই বিশাল জলাধারটি জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে আছে প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমির কৃষিকাজ। জমির মালিক ও কৃষকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। মূল বর্ণনাবিল: খুকশের জলাবদ্ধতা খুলনা ও যশোর জেলার সীমানাজুড়ে বিস্তৃত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সরকারি নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাজারো কৃষক ও জমির মালিক ফসল ফলাতে পারছেন না।স্থানীয়দের মতে, বিল খুকশের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে ডুমুরিয়ার ময়নাপুর, মান্দা, কপালিয়া, চেচুড়ি, বরুনা, রুদাঘরা ও শোলঘাতিয়া এবং যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া, সুফলাকাঠি, কাটাখালী, ভেরচী, কালীচরণপুর ও গোগ গ্রামের কৃষিজমি জড়িত। এসব এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিকাজ করতে পারছেন না। ২০০৩ সালে হরি নদীর বরুনা এলাকার সংলগ্ন স্থানে বাঁধ কেটে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর চলার পর ২০১৩ সালে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিল খুকশের জলাবদ্ধতা আবারও প্রকট আকার ধারণ করেছে প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ ময়নাপুর গ্রামের শিবুপদ ও মান্দা গ্রামের মশিয়ার রহমান বলেন, “বিলের জলাবদ্ধতা দূর করতে টিআরএমের কোনো বিকল্প নেই। শুধু নদী খনন করে স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীতে দুই-তিনবার পলি জমলেই আবার ভরাট হয়ে যাবে। তাই জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে পলি অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।”মনিকা সরকার, যিনি মান্দা-ময়নাপুর এলাকার বাসিন্দা, বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা জলাবদ্ধতার মধ্যে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছি। জমিতে ফসল হয় না। গবাদিপশুর খাবারেরও তীব্র সংকট। কচুরিপানা কেটে কোন ভাবে গরু-ছাগল বাঁচিয়ে রাখছি। আমাদের জমি আছে, কিন্তু সেই জমি থেকে কোনো ফসল পাই না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”৩ নম্বর রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জি. এম. আমান উল্লাহ বলেন, “ডুমুরিয়ার ১ নম্বর ধামালিয়া ও ৩ নম্বর রুদাঘরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের কৃষিজমি বিল খুকশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে ধানসহ কোনো ফসল উৎপাদন না হওয়ায় জমির মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’ প্রাসঙ্গিক তথ্য সূত্র ও উক্তি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিল খুকশের জলাবদ্ধতা শুধু কৃষি কাজকেই বাধাগ্রস্ত করছে না; এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনযাত্রা, গবাদিপশু পালন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বছরের পর বছর জমি পানির নিচে থাকায় অনেক কৃষক বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।ভুক্তভোগীদের দাবি, বিল খুকশের জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনা ও যশোর জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টিআরএমসহ কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে হাজারো মানুষ মুক্তি পেতে পারেন বলে মনে করছেন তারা। ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বিশ্লেষণ বিল খুকশের কৃষক ও জমির মালিকদের একটাই দাবি—জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে তাদের কৃষিজমি আবারও চাষাবাদের উপযোগী করে দেওয়া হোক। যদি এই সমস্যার সমাধান করা না হয়, তবে কৃষকরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন যা তাদের পরিবার ও সমাজের উপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে।