খুলনায় গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান এই পদিপাদ্ধ নিয়ে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল

খুলনায় মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনীতে এক কোটি টাকার চারা বিক্রি; বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা।খুলনা শহরে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান আজ (মঙ্গলবার) বিকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলাটি খুলনা জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। মেলা আয়োজক কমিটি জানায়, এই মাসব্যাপী মেলায় প্রায় এক কোটি নয় লাখ টাকার ৭৭ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গাছ আমাদের পরম উপকারী বন্ধু ও অর্থকারী ফসল। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হই, তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে গাছের প্রয়োজন রয়েছে। নিজে গাছ লাগাতে হবে এবং অন্যকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে হবে।”অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। অনুষ্ঠানে নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ বদরুল আলম রয়েল ও সাংবাদিক আল মাহমুদ প্রিন্স বক্তব্য রাখেন।বিভাগীয় কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, বৃক্ষ বিষাক্ত জলীয় বাষ্পের হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমায়, যা পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের প্রতি আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।”অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বৃক্ষমেলা নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য পাঁচজন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকর্মীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।বৃক্ষমেলার এই উদ্যোগ খুলনা অঞ্চলে পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণকে বৃক্ষরোপণের প্রতি আরও উদ্বুদ্ধ করতে এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। এই মেলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছে। ভবিষ্যতে আরো বড় আকারের মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে আরও বেশি মানুষ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।ট্যাগস: বৃক্ষমেলা, খুলনা, পরিবেশ, অর্থনীতি, বৃক্ষরোপণ

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top