খুলনার ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল

খুলনার ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল ও মন্দির সম্পত্তি বিক্রির প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়।খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আমভিটা বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি জমি দখল করে সেখানে মন্দির নির্মাণ এবং পরবর্তীতে তা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর আয়োজনে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, “শিব মন্দির-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার ডুমুরিয়ায় দলীয় সভায় আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।সভায় বক্তব্য দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানী, কার্তিক মণ্ডল, আকরাম গাজী, শরীফ গাজী, আহাদ আলী গাজী, আদিত্য কুমার মণ্ডল, পরিতোষ মণ্ডল, বিজয় বিশ্বাস ও অসীম বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “সরকারি জমি দখল এবং মন্দির সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” তারা আরও উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় সম্পত্তির পবিত্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ধরনের ঘটনা সরকারের জমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ করছে। এছাড়া, ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও সচেতন ও কঠোর হওয়া উচিত।সমাজ-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের জমি দখল এবং মন্দির সম্পত্তি বিক্রির ঘটনা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। অতএব, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।অব্যাহত প্রতিবাদ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ আশা করছেন যে, এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে।ট্যাগস: খুলনা, ডুমুরিয়া, জমি দখল, ধর্মীয় সম্পত্তি, প্রতিবাদ

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

অশ্রুসিক্ত বিদায়ে নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের দুর্গা বিসর্জন লঙ্গন নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা, আবেগাপ্লুত নারী-পুরুষ ও শিশুরা

বিদায়ের সুরে বিষাদময় পরিবেশ, চোখভরা অশ্রু আর বুকভরা ভালোবাসা—এমন আবেগঘন

Scroll to Top