ডুমুরিয়ার রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাইদুল-মহানন্দ প্যানেল জয়লাভ করেছে

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয় হলরুমে কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। নির্বাচনে দুটি পৃথক প্যানেলে বিভক্ত হয়ে মোট ৫টি পদের বিপরীতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল। উৎসবমুখর এই আয়োজনে মোট ৫০৯ জন ভোটারের মধ্যে ৪১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি বড় নিদর্শন হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নেন এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা হয়।

নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাইদুল, মহানন্দ, শিবাজী ও তরিকুল সমন্বিত পূর্ণ প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে আন্দুলিয়ার মোঃ মাইদুল ইসলাম সর্বোচ্চ ২২২ ভোট পেয়ে সবার উপরে অবস্থান করেন, দেড়ুলীর শিবাজী সরকার ২০২ ভোট, কৃষ্ণনগরের মহানন্দ কুমার মল্লিক ২০০ ভোট এবং কোমরাইলের তরিকুল ইসলাম ১৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে রাবেয়া বেগম ১৯৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে, পরাজিত প্যানেলের অসীম মন্ডল ১৬১ ভোট, আছাদ আলী সরদার ১৬৫ ভোট, আব্দুল হালিম শেখ ১৬৩ ভোট এবং সরদার কায়েস জাহাঙ্গীর ১৫৪ ভোট পেলেও বিজয়ের দেখা পাননি। সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ায় বোঝা যায় প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং ভোটাররা প্রতিটি প্রার্থীকে বেশ গুরুত্বের সাথেই মূল্যায়ন করেছেন। এই নির্বাচনের ঠিক আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছিল, যেখানে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বি এম নুর-ই আলম সিদ্দিকী, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অনুপ কুমার মন্ডল এবং গণিত বিভাগের শিউলি মল্লিক নির্বাচিত হন। শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের এই সমন্বয় বিদ্যালয়ের আগামী দিনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে একটি নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তৎপর ও প্রশংসনীয়। ফলাফল ঘোষণার সময় প্রিজাইডিং অফিসারের পাশাপাশি উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার টিকেন্দ্রনাথ সানা, প্রধান শিক্ষক লুৎফুন্নেছা খাতুন, অভিভাবক সদস্য প্রভাষক মোঃ গিয়াস উদ্দিন মোড়ল এবং শিক্ষক জিএম আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রঘুনাথপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাজী রহমত এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের শেখ হুমায়ূন কবির ও অসিম কুমার মন্ডল দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও প্রার্থীর সমর্থকদের সহযোগিতার কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, যা এলাকার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার নতুন পথ উন্মুক্ত হলো। নির্বাচিত নতুন কমিটি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। অতীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন পর্ষদে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও, এই বিদ্যালয়ের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রমাণ করে যে সচেতন অভিভাবকরা সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে পিছপা হন না। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত এই নতুন পরিষদ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা অত্যন্ত জোরালো রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

অশ্রুসিক্ত বিদায়ে নাসিরনগর মাতৃকা সংঘের দুর্গা বিসর্জন লঙ্গন নদীর তীরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা, আবেগাপ্লুত নারী-পুরুষ ও শিশুরা

বিদায়ের সুরে বিষাদময় পরিবেশ, চোখভরা অশ্রু আর বুকভরা ভালোবাসা—এমন আবেগঘন

Scroll to Top