ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র সড়ক বাজারে যানজট যেন নিত্যদিনের চিত্র। সরকারি ছুটির দিনেও এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পান না স্থানীয়রা। যানজটে আটকে ট্রেন মিস করা থেকে শুরু করে দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। তবে এবার সেই ‘পরিচিত যানজট’ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ লটারির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত স্থান বুঝিয়ে দেবেন। এতে স্বস্তি ফিরবে স্থানীয়দের মধ্যে, এতে করে নির্দিষ্ট জায়গা পাওয়ায় খুশি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও।
আখাউড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র আখাউড়া সড়ক বাজার। এখানে চলাচলের যে একমাত্র সড়ক আছে সেটি দিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যেতে হয়। উপজেলার একটি অংশের মানুষকে এ পথ ধরেই যেতে হয় হাসপাতালে। দিনকে দিন এ সড়কে চলাচল দুসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান, যত্রতত্র মোটর সাইকেল রাখার কারণে সড়কে যানজট নিত্যসঙ্গী।
এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয়রা এটি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলে আসলেও কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিলো না। সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে পৌরসভা লাগোয়া খালি জায়গায় তাদেরকে বসানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই জায়গাটি ঢালাই ও বসার স্থান ইট দিয়ে উঁচু করাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়।
ইতিমধ্যেই পৌরসভার পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ হকারদের তালিকা করা হয়েছে। কে কোথায় বসবেন সেটি নির্ধারণ করতে লটারির আয়োজন করা হয়েছে। লটারি শেষে ব্যবসায়িদের জন্য জায়গাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের জন্য ৯৮টি বসার স্থান করা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল পাকিংয়ের জন্যও জায়গা রয়েছে। করা হয়েছে একটি টয়লেট। ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব কাজ করা হয়েছে।
আখাউড়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া নববাণীকে বলেন, ‘আখাউড়া পৌর এলাকার সড়ক বাজারের যানজট সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থায়ী ব্যবস্থার চিন্তা থেকে হকারদের বসতে নির্ধারিত স্থান করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওই স্থানের পাশেই মোটরসাইকেল পাকিং করা যাবে। জেলা প্রশাসক লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন কে কোথায় বসবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব স্থান খালি হবে সেখানে নতুন করে আর কাউকে বসার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। যে বসবে সে তো বটেই প্রয়োজনে বসার সুযোগ করে দেওয়া দোকানীকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। এর আগে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করা হবে। আমরা এ কাজে সকলের সহযোগিতা চাই। এতে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা দূর হবে।’



