টানা বর্ষণে তিন ক্যাম্পে পৃথক ধসে শিশু-নারীসহ ৮ জনের মৃত্যু; নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পাহাড়ের ঢালেই বসবাস হাজারো পরিবারের
একটানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশু ও নারীসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও কাটেনি আতঙ্ক। উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এখনো পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন লাখো রোহিঙ্গা। নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট এবং বিকল্প জায়গার অভাবে তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই অবস্থান করছেন। ফলে চলমান বর্ষায় যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ১১ নম্বর বালুখালী এবং ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে একটি ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে রাত ৩টার দিকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
এছাড়া ৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলের কাদায় চাপা পড়ে দমবন্ধ হয়ে মারা যায় সাত বছরের শিশু মো. একরাম।
প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়লেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সুযোগ সীমিত। ফলে হাজারো পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং পাহাড়ধস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।




