পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে সংঘটিত টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের অভিযানে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙিখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন মূলহোতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দুই ভাইকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লুট হওয়া ৫৭ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধিরা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় অভিযুক্তের এক ঘনিষ্ঠ নারী আত্মীয় বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি ডাকাতদের তথ্য দিলে তারা সিএনজি অটোরিকশায় বাসটির পিছু নেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে সড়কে পেরেক লাগানো গাছের গুঁড়ি ফেলে পালকি পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করা হয়।
এরপর মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতরা বাসে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি আরমান, সাকিব ও একরামকে ছুরিকাঘাত করে তাদের কাছে থাকা প্রায় ৫৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
আহত তিনজনই টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা এবং বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর)। তারা সীমান্ত ব্যাংক টেকনাফ শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এজেন্টের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।




