বাউফলে শতাধিক মৃৎশিল্প কারখানায় কর্মসংস্থান, জীবিকার ভরসা পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাগজিরপুল এলাকায় কয়েক যুগ ধরে গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প এখন ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প থেকে বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট-বড় মৃৎশিল্প কারখানা। এসব কারখানায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি মাটি সংগ্রহ, পণ্য তৈরি, পরিবহন ও বিপণনসহ বিভিন্ন ধাপে জড়িয়ে রয়েছেন আরও অনেকে।
স্থানীয়ভাবে একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এ পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেও মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। দিন দিন এ শিল্পে তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ায় কারখানার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকান ও শোরুম। কাগজিরপুল এলাকা এবং কারখানার আশপাশের শোরুমগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্রেতারও আনাগোনা বাড়ছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাটির পণ্য এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মাটি সংকটে শিল্প টিকিয়ে রাখার শঙ্কা
মৃৎশিল্পের প্রধান কাঁচামাল মাটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, মাটি সংগ্রহের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে একসময় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন এ পেশার ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের সহযোগিতায় বৈধ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে।
একটি পণ্য তৈরিতে কয়েকটি ধাপ
মাটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে মাটি প্রস্তুত, পণ্যের আকৃতি দেওয়া, শুকানো, পোড়ানো এবং বাজারজাতকরণ—বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ মৃৎপণ্য। প্রতিটি ধাপেই শ্রম ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ফলে কারখানার সরাসরি শ্রমিকদের বাইরেও মাটি সংগ্রহকারী, পরিবহনকর্মী, বিক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাউফলের কাগজিরপুল এলাকার মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয়; এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং বহু পরিবারের জীবিকার উৎস। তাই প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা, কারিগরদের সহায়তা দেওয়া এবং বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে কাগজিরপুলের মৃৎশিল্প আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মনপুরায় পূজামণ্ডপে অনুদান দিলেন মোরশেদ, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও ইউনিয়নের সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোরশেদের।

১ নং মনপুরা ইউনিয়নে দুর্গাপূজার চারটি মণ্ডপে নগদ আর্থিক অনুদান

Scroll to Top