১ নং মনপুরা ইউনিয়নে দুর্গাপূজার চারটি মণ্ডপে নগদ আর্থিক অনুদান দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক মো. মোরশেদ উদ্দিন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়নের সার্বিক সমস্যা সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অন্যদিকে, দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। সোমবার নাইবেরহাট দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
চার পূজামণ্ডপে নগদ অনুদান
অনুদানপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপগুলো
হলো নাইবেরহাট দুর্গাপূজামণ্ডপ, হড়িবাড়ি দুর্গাপূজামণ্ডপ, কাওয়াটেক সীতাকুণ্ড দক্ষিণ দুর্গাপূজামণ্ডপ এবং কাওয়াটেক সীতাকুণ্ড উত্তর দুর্গাপূজামণ্ডপ।
অধ্যাপক মোরশেদ উদ্দিন জানান, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে এসব মণ্ডপে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
অধ্যাপক মোরশেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হতে পারলে
১ নং মনপুরা ইউনিয়নের সব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন
শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিপূর্ণ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চান। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
‘ধর্ম যার যার, অধিকার সবার’
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে অধ্যাপক মোরশেদ উদ্দিন বলেন, ‘ধর্ম যার যার, অধিকার সবার। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো মানুষ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন। মনপুরায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে হবে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়ন বোঝায় না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার প্রসার এবং জনসাধারণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও দোয়া পেলে
১ নং মনপুরা ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
ওসির বক্তব্য: পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় পুলিশ-আনসার মোতায়েন
সোমবার সন্ধ্যায় নাইবেরহাট দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সতর্ক রয়েছি। পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূজামণ্ডপের আশপাশে মাদক কেনাবেচা, গাঁজা, ইয়াবাসহ কোনো ধরনের মাদকদ্রব্যের ব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি করছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে কেউ যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’
ওসি বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কোথাও কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।’
মোটরসাইকেল নিয়ে গণসংযোগ ও পথসভা
এদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় কাওয়াটেক এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে গণসংযোগ ও পথসভা শুরু করেন অধ্যাপক মোরশেদ উদ্দিন। পরে তিনি চৌধুরী বাজার, তুলাতলীসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ছিলেন।
গণসংযোগকালে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা শোনেন। এ সময় কয়েকজন সমর্থক তাঁকে
১ নং মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানান।
অধ্যাপক মোরশেদ উদ্দিন বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন এবং জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান তিনি।




