ভুল বুঝিয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার দাবি অভিভাবকদের, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বদরপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক দাবি করেছেন, তাদের প্রকৃত বিষয় না জানিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে ওই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বিভিন্ন কথা বলে তাদের ভুল বুঝিয়ে একটি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেন। পরে ওই স্বাক্ষর ব্যবহার করে মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কয়েকজন অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা জানান, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় তাদের কাছে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। বিভিন্ন কথা বলে ও ভুল বুঝিয়ে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারেন, ওই স্বাক্ষর ব্যবহার করে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, সুপার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিজেরা অবগত হয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি জানার পর তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
অভিভাবকরা আরও বলেন, তারা গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। রাজনীতি বা কোনো ধরনের বিরোধের বিষয় তারা বোঝেন না। তাদের একমাত্র চাওয়া, মাদ্রাসায় তাদের সন্তানরা ভালো পরিবেশে লেখাপড়া করুক। তাদের দাবি, সুপার (ভারপ্রাপ্ত)আনিছুর রহমান শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো দেখেন এবং তাদের কাছে তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত।
এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের ভুল বুঝিয়ে কেন অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হলো—এটাই আমাদের প্রশ্ন। আমরা কোনো রাজনীতি বুঝি না। আমাদের সন্তানরা ভালোভাবে লেখাপড়া করুক, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে থাকুক—এটাই চাই।”
অভিভাবকরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং যারা ভুল বুঝিয়ে তাদের স্বাক্ষর নিয়েছেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়েকুল হাসান খান বলেন, মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
প্রশাসনের তদন্তের পরই মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত)আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।




