রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি ওপর হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। শফিকুর রহমান তার পোস্টে লেখেন, ‘আজকে সকাল ১১টায় আইইডিসিআর (IEDCR)-এ যে ঘটনা ঘটেছে, সমাজের একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষিত সমাজেও যদি এই ধরনের মব স্পষ্ট দিবালোকে বেপরোয়াভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে ভাবা যায় দেশ কোন পথে?।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একটার পর একটা অঘটন ঘটেই চলছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত এখনও তাজা। সেই অবস্থায় সরকারি দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতাকর্মীরা আজকে যে ঘটনা ঘটালেন, তা বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচনা করল।’
এ ঘটনাকে সীমালঙ্ঘন, ধৃষ্টতা ও অপরাধমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা কোনো অবস্থাতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দাবি, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পরিচালক নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তোলেন এবং মারধর শুরু করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) তো কিছু দোষ আছে।’ কী দোষ জানতে চাইলে তিনি একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কাজী আহমেদ কীভাবে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের কার্যালয়ে বৈঠক করেন, সেটিই প্রশ্ন।
আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন এ ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেন, ‘আমি অফিসিয়ালি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
আইইডিসিআর দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা এবং রোগের বিস্তার সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। সংস্থাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।



