খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা কেটে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে রাতের আঁধারে এক নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মো. আলাউদ্দিন গাজী নামের এক ব্যক্তির রোপণ করা প্রায় ২০ শতক জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা পরিকল্পিতভাবে কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে। রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা জমির ভেতরে প্রবেশ করে সুপারি, কাঁঠাল, মেহগনি ও আমসহ বিভিন্ন দামি ও সম্ভাবনাময় গাছের চারাগুলো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে। সকালে জমির মালিকের ভাই মো. শাহাবুদ্দিন গাজী জমিতে গিয়ে চারাগুলো ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এই ঘটনাটি কেবল একটি গাছ কাটার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শাহাবুদ্দিন গাজী জানান, তার ভাই আলাউদ্দিন গাজী চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করায় জমিটি দেখাশোনার দায়িত্ব তাদের ওপরই ছিল এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় করে তোলা হচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, এটি তাদের ওপর চালানো প্রথম কোনো আক্রমণ নয়; এর আগেও তাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা সরকারি টিউবওয়েলের হাতল এবং পাইপলাইনের মোটর চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাফায়েত শেখ ও ফারুক জোয়ার্দারসহ প্রত্যক্ষদর্শীরাও এই ধারাবাহিক অপকর্মের বিষয়ে অবগত রয়েছেন। রাতের অন্ধকারে এভাবে একের পর এক সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তাদের আশঙ্কা, দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কোনো ক্ষতিসাধন হতে পারে।
এদিকে, ডুমুরিয়া থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গ্রহণ করার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তদন্তের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের খুঁজে বের করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করার মতো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এলাকায় এ ধরনের অসামাজিক ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধ করতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা প্রয়োজন। এছাড়া, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গাছের চারা কাটার এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ডুমুরিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাতের আঁধারে এভাবে পরিকল্পিতভাবে গাছ নিধন কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি নয়, বরং এটি সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য একটি অশনিসংকেত। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না যায়, তবে মিকশিমিল গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। পরিবহন ও কৃষিভিত্তিক এই জনপদে একের পর এক চুরিসহ এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে, যা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা পালন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।




