হাডুডু মাঠে খেলোয়াড় থেকে জনপ্রিয় রেফারি—‘কালু টাইগার’ এখন সবার পরিচিত মুখ

হাডুডু—গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। সময়ের সঙ্গে এই খেলায় এসেছে নানা পরিবর্তন। তবে মাঠের উত্তেজনা, খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস আজও আগের মতোই রয়েছে। আর সেই মাঠে নিজের দক্ষতা, আচরণ ও নিরপেক্ষ রেফারিং দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শ্রীরামকান্দি গ্রামের লুৎফর রহমান শেখের ছোট ছেলে কালু টাইগার।

একসময় মাঠ কাঁপানো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কালু টাইগার বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার হাডুডু খেলায় রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সাবলীল রেফারিং, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুন্দর আচরণ এবং নিয়ম বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ধরন ইতোমধ্যে দর্শক ও খেলোয়াড়দের নজর কেড়েছে।

স্থানীয় হাডুডু অঙ্গনে বর্তমানে ‘কালু টাইগার’ নামটি বেশ পরিচিত। বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হাডুডু ম্যাচে তাঁকে রেফারির দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের সমান গুরুত্ব দিয়ে নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে শান্তভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়াকেও গুরুত্ব দেন এই রেফারি।

কালু টাইগারের হাডুডুর সঙ্গে সম্পর্ক ছোটবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী খেলার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই একসময় খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও হাডুডু খেলার সুযোগ হয়েছে তাঁর। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।

খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে থাকার পাশাপাশি একসময় রেফারিংয়ের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় হাডুডু ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও তাঁর রেফারিং প্রশংসিত হচ্ছে।

কালু টাইগার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই হাডুডু খেলার প্রতি আমার ভালোবাসা। খেলোয়াড় হিসেবে অনেক জায়গায় খেলেছি। এখন রেফারির দায়িত্বও পালন করছি। আমি চেষ্টা করি মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়ের প্রতি সমান আচরণ করতে এবং নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিতে। কোনো খেলোয়াড় যেন অযথা অসন্তুষ্ট না হন, সেদিকেও আমি গুরুত্ব দিই।”

তিনি আরও বলেন, “রেফারি হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরপেক্ষ থাকা। মাঠে দুই দলই আমার কাছে সমান। নিজের নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করি। হাডুডু খেলাটাকে ভালোবাসি বলেই সুন্দর পরিবেশে খেলা পরিচালনা করতে চাই।”

স্থানীয় আয়োজক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালু টাইগারের রেফারিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর ভদ্র ও বন্ধুসুলভ আচরণ। খেলার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ফলে বিভিন্ন এলাকার আয়োজকদের কাছেও রেফারি হিসেবে তাঁর চাহিদা বাড়ছে।

হাডুডুর মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখন রেফারিংয়ে কাজে লাগাচ্ছেন কালু টাইগার। একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের ভেতরের পরিস্থিতি বোঝার পাশাপাশি রেফারি হিসেবে নিয়ম-কানুনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তিনি। আর এ কারণেই স্থানীয় হাডুডু অঙ্গনে ধীরে ধীরে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করছেন।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডুকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে মাঠে নিয়মশৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন কালু টাইগার। তাঁর লক্ষ্য—খেলোয়াড়রা যেন আনন্দের সঙ্গে খেলতে পারেন, দর্শকরা যেন উপভোগ করতে পারেন এবং প্রতিটি ম্যাচ যেন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খেলোয়াড় থেকে রেফারি—দুই ভূমিকাতেই কালু টাইগার তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাডুডুর প্রসারে আরও ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হাডুডু প্রতিযোগিতায় তাঁর রেফারিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা খেলোয়াড়, আয়োজক ও হাডুডুপ্রেমীদের।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে: ডুমুরিয়ার ১নং ধামালিয়া ইউনিয়নে মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলি আসগর লবি নতুন দিগন্ত সূচনা করলেন

ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডুমুরিয়া উপজেলার

Scroll to Top