বর্ণিল আয়োজনে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সামাজিক সংগঠন ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কল্যাণে নিবেদিত প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশন অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে তাদের যাত্রার ছয় বছর পূর্ণ করেছে। সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। দিনটি স্মরণে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল কেক কাটা এবং একটি বিশেষ আলোচনা সভা, যা স্থানীয় সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত ছয় বছর ধরে সংগঠনটি যেভাবে আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে, তারই একটি প্রতিফলন ছিল এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আয়োজন। কী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান, কে বা কারা এর সাথে যুক্ত এবং কোন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে—তার সবই প্রতিভাত হয়েছে এই বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। মূলত স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়েই এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংগঠনের বিগত দিনের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশন তাদের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ও আদর্শকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা স্থানীয় সামাজিক পরিমণ্ডলে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে, গ্রামীণ জনপদে সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, যা ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সুনির্দিষ্ট দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল বিগত ছয় বছরের নিরলস সেবামূলক কাজের একটি আত্মমূল্যায়ন।
আলোচনা সভায় ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের নানা দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল হালিমসহ ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, মাস্টার শেখ শহিদুল ইসলাম, মাস্টার জি এম আব্দুস সালাম, মাস্টার সেলিম হালদার এবং মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি মেম্বর আসমা বেগম, মানবাধিকার কর্মী মুক্তা আফরোজ, আজীবন সদস্য মর্তুজা খান, মো. শহিদুল ইসলাম মোড়ল, মো. আরিফুরজ্জামান খান নয়ন, ইয়াসিন আরাফাত, সরোজ কুমার ঢালী ও আব্দুল করিম শেখসহ সংগঠনের অন্যান্য নিবেদিতপ্রাণ সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে কেবল নামমাত্র সংগঠন হিসেবে নয়, বরং প্রকৃত অর্থেই মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং বিভিন্ন দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় যখন মানবতা নানা সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখন এই ধরণের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। স্থানীয় সুবিধাভোগী ও সাধারণ মানুষের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সংগঠনটি যেভাবে নিজেদের নিবেদিত রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মঞ্চ থেকে সংগঠনের সদস্যরা আরও বৃহত্তর পরিসরে সামাজিক অপরাধ ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংগঠনের এই সাহসী পদক্ষেপ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা স্থানীয় যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করছে বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই জমকালো আয়োজনের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, আগামী দিনে ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ এই সংগঠনের সহায়তার সুফল পেতে পারে। মাদকবর্জিত সমাজ গঠন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মতো জনহিতকর কাজগুলো আরও বেগবান করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এই সভা থেকে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান আয়োজকরা। ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের মতো স্থানীয় সংগঠনগুলো যদি নিয়মিতভাবে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে সমাজ থেকে বহু অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা ও আলোচনা সভা শেষে একটি সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। এই সফল আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা এবং দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করলে সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা ডুমুরিয়া উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে একটি স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

