‘যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেব না’, আদালতে অঙ্গীকার দুই ককরোচ নেতার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। সাত দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে মুক্তির আগে আদালতে তারা অঙ্গীকার করেছেন, যন্তর মন্তরকে আবার বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত সেখানে আর বিক্ষোভের ডাক দেবেন না তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নয়াদিল্লির একটি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ না করার এই অঙ্গীকার করেন আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। আদালতের আদেশে নথিভুক্ত বক্তব্যে দাস ও রাঙ্কা একই ভাষায় বলেন, ‘আমি শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কাজ না করার অঙ্গীকার করছি। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থা এবং এর সব প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে এসইএম আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

তাদের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়, ‘শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আমরা আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশেষভাবে জানাচ্ছি, আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের কোনো ডাক দেব না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আবারও অঙ্গীকার করছি, যেকোনো বিক্ষোভ আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই করা হবে।’

বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ড জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে মুক্তির আদেশ দেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে বলে জানান আদালত। পরবর্তী শুনানি আগামীকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন দাস ও রাঙ্কা। এর আগের দিন ১৩ অক্টোবর, যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ান তারা। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এর আগে ১০ অক্টোবর তাদের আটক করা হয়েছিল। ওই দিন কথিত নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন তারা। আটকের পর শান্তি বজায় রাখার যে মুচলেকা তারা দিয়েছিলেন, ফটক টপকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করায় তা ভঙ্গ হয়েছে।

বুধবার আদালত থেকে বের করে নেয়ার সময় দাস বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে’। যদিও দিল্লি পুলিশ তাদের আরও তিন দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার আবেদন করেছিল। এর আগে ১৪ অক্টোবর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পর প্রথমে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার এই হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছিল।

অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত সিজেপির অভিযোগ, দুই নেতাকে হেফাজতে রাখতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছিল। হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলটি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে।

বুধবার এর আগে ওই আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট ‘মুচলেকা ভঙ্গের’ বিষয়টি তুলে ধরে। আদালতের বেঞ্চ বলেন, ‘আপনারা বিক্ষোভের সামনের সারিতে রয়েছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন আরও অনেকে তা অনুসরণ করতে পারেন। এমন লোকও থাকতে পারেন, যাদের ওপর আপনাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।’

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘নিজ দেশের বাইরেও এমন ঘটনা ঘটতে আমরা দেখেছি। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দিয়ে শুরু হয়ে পরে তা অগ্নিসংযোগ ও ভবন পোড়ানোর ঘটনায় রূপ নিয়েছে’। তবে আদালত কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

দুই নেতার বয়সও জানতে চান আদালত। তাদের বয়স ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে বেঞ্চ মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। বিক্ষোভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সোচ্চার এই প্রজন্মের আন্দোলনের মধ্যে গত জুন-জুলাইয়ের বিক্ষোভও রয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ওই আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

এদিকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, তিনি একতরফাভাবে কাজ করছেন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও একই ইস্যুতে অভিযোগ তুলছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top