টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। প্রবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো এই ডিজিটাল প্রতারণার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি ওসির আসল ছবি ও নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন বা মেসেজ দিয়ে দাবি করছে যে, তাদের নামে থানায় অভিযোগ বা মামলা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই মামলা থেকে নাম প্রত্যাহার কিংবা বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
গেল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানি এলাকার বাসিন্দা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুল ইসলাম খান জানান, ওসির ছবিযুক্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার ফোনে কল আসে। ফোনকারী নিজেকে মির্জাপুর থানার ওসি দাবি করে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের কথা জানায় এবং তা নিষ্পত্তির জন্য টাকা চায়। ফোনকারীর কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দিই। পরে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের পাঠাই।
এর মাত্র কয়েকদিন আগে একই কৌশলে প্রেসক্লাব মির্জাপুরের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খানের কাছেও ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”তিনি আরও জানান, এই অপরাধচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা পরিচিত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করলে, তা যাচাই না করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের জালিয়াতি এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন মহল সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যেকোনো সন্দেহজনক কল বা মেসেজ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




