ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নে মিকশিমিল বাজার থেকে সাহাপাড়া পর্যন্ত ৫০০ ফুট দীর্ঘ ইটের সলিং রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।..
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল বাজার থেকে সাহাপাড়া পর্যন্ত সংযোগকারী ৫০০ ফুট দীর্ঘ ইটের সলিং রাস্তাটি বর্তমানে চরম বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশের ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে যাতায়াতের অনুপযোগী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মৌসুমি বৃষ্টির কারণে গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানির একাকার অবস্থায় পরিণত হওয়ায় রাস্তাটি সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। সড়কটির এমন নাজুক পরিস্থিতি স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে এক বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ধান, সবজি ও মৎস্য সম্পদ বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী দেবাশীষ সাহা, উত্তম সাহা ও উজ্জ্বল সাহাসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, এই সড়কটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এটি এলাকার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। সাহাপাড়ার শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রাস্তাটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে রুদাঘরা মিকশিমিল উচ্চ বিদ্যালয়, মিকশিমিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহপুর মধুগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এই রাস্তাটি ব্যবহার করা এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়া এবং যাতায়াতের সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও রাস্তাটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে তাদের দুর্ভোগের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে।
এলাকাবাসীর এই তীব্র ক্ষোভ ও দাবির প্রেক্ষিতে রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন মোল্য স্বীকার করেছেন যে, রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দ্রুত পাকাকরণ করা সময়ের দাবি। তিনি জানান, জনচলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সরেজমিনে রাস্তাটির বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র পরিদর্শন বা মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না, বরং দ্রুত বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে রাস্তাটি পাকাকরণের কাজ শুরু করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হয়।
পরিশেষে, একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের এমন ভগ্নদশা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি জরুরি ভিত্তিতে এই ৫০০ ফুট রাস্তাটি পাকাকরণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই জনপদটি যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং টেকসই সংস্কার কাজের মাধ্যমেই কেবল এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই এখন এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।