জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আবারও দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার নতুন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আদালতে দিলীপ আগারওয়ালাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আগের দফার জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও আরও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে অতিরিক্ত সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ আগারওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়ালা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মামলার ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার চোরাচালানসংক্রান্ত অভিযোগে অর্থপাচার আইনে করা একটি মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। ওই রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে তৎকালীন র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তী সময়ে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী আ. জব্বার। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে দিলীপ আগারওয়ালাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



