ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়েছেন বিরোধী রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারো। এদিকে, তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দেশ ছাড়েন ফ্লাভিও। এর আগে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় তার ভ্রমণসংক্রান্ত নথি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাদের কী ধরনের ভিসা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর দায় প্রমাণিত হয়েছে— এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দি মোরায়েস তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি আইনজীবী উইলার তোমাজের সঙ্গে যোগাযোগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তোমাজের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের সন্দেহে তদন্ত চলছে।
ফ্লাভিওর দেশত্যাগের ঘটনায় তার বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর জইর বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে ব্রাজিলে ফিরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলায় তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।
ফ্লাভিওর দেশত্যাগ এবং তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার উদ্যোগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।



