খুলনার ডুমুরিয়ায় আর.আর.জি.টি. মিলনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী তফসীর আহমেদ। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ..
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আর.আর.জি.টি. মিলনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী তফসীর আহমেদ। গত ৩১ আগস্ট সোমবার সকালে থুকড়া এলাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত গাজী তফসীর আহমেদের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই এই নতুন কমিটির প্রাথমিক লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হিসেবে খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শামিমের মনোনয়নকেও স্বাগত জানানো হয়, যা বিদ্যালয়ের আগামী দিনের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক সমন্বয়ের একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত তুলে ধরেন। তাদের মতে, অতীতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা নিরসনে নতুন কমিটির কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মানে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে আসছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে শিক্ষাবান্ধব করে তোলার ওপর জোর দেন। শিক্ষার্থীরা তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের কাছে একটি সুন্দর শিক্ষাঙ্গন উপহার পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করে। এই পর্যায়ে বক্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র সংবর্ধনা বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সভাপতিকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় নতুন সভাপতি গাজী তফসীর আহমেদ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করাই হবে তাঁর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কমিটি বিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান মিলবে এবং ছাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, ডুমুরিয়ার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্বের আগমন স্থানীয় শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অধিকাংশ মানুষই উন্নয়নের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছেন। যদি নতুন কমিটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে তা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিশেষে, এই দায়িত্ব গ্রহণ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না হয়ে বরং একটি দায়িত্বশীল পরিবর্তনের সূচনা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
