খুলনায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হলো।খুলনা সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক মু: বিল্লাল হোসেন খান। তিনি বলেন, “বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি বড় করে। নিজেকে বিকশিত করতে হলে বই পড়ার প্রয়োজন। বইপড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।”বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেন, “নিজেদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের বেশি করে সাহিত্যবিষয়ক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বই পড়তে হবে।”অনুষ্ঠানে চারটি পর্বে খুলনা মহানগরের ৩০টি স্কুলের দুই হাজার দুইশত ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে খুলনা মহানগরের ৪৬টি স্কুলের মোট তিন হাজার দুইশত ৬৯ জন শিক্ষার্থী এই বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় এক হাজার পাঁচশত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বইপড়া কর্মসূচি চালু রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।এই ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আলোকিত প্রজন্ম গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ট্যাগস: খুলনা, শিক্ষা, সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বইপড়া