খুলনায় মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিয়ে অংশীজনদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে খুলনা গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সম্মেলনকক্ষে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্যখাতের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ অবদান ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, মাছ উৎপাদনে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিদিন একজন মানুষ গড়ে ৬৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে।সরকার মৎস্যজীবীদের জন্য কৃষক কার্ডের মতো মৎস্যকার্ড প্রদানের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এই উদ্যোগ মৎস্যজীবীদের আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার মো: মুক্তাদির খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক এইচ, এম, বদরুজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ.টি.এম. তৌফিক মাহমুদ।মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায়। সভায় মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মৎস্য আহরণকারী, বোট মালিক, নৌকা চালকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।এই মতবিনিময় সভায় মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা টেকসই মাছচাষ পদ্ধতি এবং দেশীয় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।মৎস্যখাতের উন্নয়নে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা আরও বলেন, মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।এই সভা দেশের মৎস্যখাতের উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।ট্যাগস: মৎস্যখাত, খুলনা, অর্থনীতি, কৃষি, টেকসই উন্নয়ন



