শুক্রবার,২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম, আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৮

​সিলেটজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনা। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গোপালপুরে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে।
​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভাগটির বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ২৪৮ জন হাম আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত শিশু ভর্তি আছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছে আরও ৭১ জন। রোগীদের মধ্যে সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৯১ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
​বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মহামারিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলায়। মোট ১০৮ জন মৃতের মধ্যে সুনামগঞ্জের ৪৮ জন, সিলেটের ৩৬ জন, মৌলভীবাজারের ১৩ জন এবং হবিগঞ্জের ১১ জন রয়েছে।
​স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, পর্যাপ্ত টিকাদানের অভাবই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, আক্রান্ত ও মৃত শিশুদের ৯৫ শতাংশই হামের টিকা নেয়নি।
​তিনি আরও জানান, বিশেষ করে সিলেটের চা-বাগান এলাকা এবং সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা ও নানা সামাজিক কুসংস্কার রয়েছে। সচেতনতার অভাবে এসব দুর্গম এলাকার বহু শিশু টিকাদান কর্মসূচির আওতা থেকে বাদ পড়ে গেছে। ফলে ওই দুটি জেলায় সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গম হাওর ও চা-বাগান এলাকায় অবিলম্বে বিশেষ টিকাদান ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা না গেলে এই অকাল শিশুমৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে। একই সাথে অভিভাবকদের কুসংস্কার বা অজ্ঞতা কাটিয়ে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রচার চালানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন