বৃহস্পতিবার,৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই যুবলীগ  নেতা মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির
ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদেশ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে ক্রোক আদেশ বাস্তবায়ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। মামলার বিবরণে জানা গেছে ২০২৪ সালে এন আই ক্র্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুর  যুগ্ন দায়রা জজ ২য় আদালতে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার  মামলা করেন তার ব্যবসায়ী অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচি, যার মামলা নম্বর এস সি ১৫৬/২০২৪
ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সরফরাজ হোসেন মৃদুল কে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুণ জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। রায় ঘোষনার পর নিদিষ্ট সময় পার হলেও আসামী সরফরাজ হোসেন মৃদুল কোন আপিল করেননি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারী বাদী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারা মতে জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা আদায়ে আসামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার (ওসি কে) নির্দেশ দেন। একই আদেশের কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয়, আসামি শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকায় আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৩টি সিলিং ফ্যান, ১ টি ফ্রিজ ২ টা খাট, ১সেট  সোফা, ২ টি আলমারি,১ টি ড্রেসিং টেবিল, ১ টি এসি, এগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে হয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজায় ৬৬ ৯২ নম্বর খতিয়ানে ২. ৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজায় ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০.০০৩২ একর জমি, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০.০৭৫ একর জমি, একই খতিয়ানের ভিন্ন দাগে ০.০০২৫ একর জমি, ১১৭৮ নম্বর খতিয়ানের ০.০৪২১ একর জমি, হরিরামপুর মৌজায় ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০.৪৬ একর জমি, মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩.৩৬৪৫ একর জমি, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০হাজার টাকা। মামলার বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচি জানান আদালত আড়াই মাস আগে ক্রোক আদেশ দিয়েছেন আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন থেকে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন ক্রোক আদেশের কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এ ডি এম) তাজওয়ার সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন ক্রোকের আদেশ পাওয়ার পর সাবেক ডিসি স্যার এসিল্যান্ডকে তদন্ত দিয়েছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে ডিসি স্যার কে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্যার বদলি হয়ে যাওয়ায় ক্রোক আদেশ বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত আদেশ বাস্তবায়ন হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন