ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড়ই চাষে ভালো ফলন হওয়ায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা |
ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড়ই চাষে ভালো ফলন হওয়ায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা । তবে সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ জেলায় ব্যাপক ভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু বড়ই বাগান দেখা যায়। বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই।দেখতে খুব সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ, চার থেকে ছয় ফুট উচ্চতার এই গাছ। ছোট থেকে বড় প্রতিটি গাছে বরইয়ের ভারে ডাল নুইয়ে পড়েছে। লাল আপেলের রংয়ে আপেল কুল ও সাদা সবুজ মিশ্রিত বাউ কুল সহ নানা জাতের পরিপক্ব বরইগুলো স্বাদে বিভিন্ন রংবিরঙের স্বাদ, হাল্কা টক মিষ্টিতে স্বাদে ভরপুর। ভোলা জেলা সদর, লালমোহন উপজেলা রমাগঞ্জ ইউনিয়নে মহাজন বাড়ির পাশে এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বড়ই বাগানের তথ্য পাওয়া যায়।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে চতলা গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মেম্বার এর নতুন বাড়িতে কিছু বড়ই গাছের তথ্য পাওয়া যায় রশিদ মেম্বারের জমিনের পাশে ১০ শতক জমিতে একটি কুল বাগান করেছেন। পরিপক্ক বড়ই সংগ্রহ কালে কথা হয় তার চাচাতো ভাই আবু ও তার স্ত্রী সাথে কথা হলে তারা জানান, অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় বড়ই চাষও ভাল লাভজনক। এই বাগানে প্রতি শতাংশে একটি করে বড়ই গাছ রোপন করা হয়েছে। রোপনের পর প্রতিটি গাছে প্রায় এক বছর পর পরিপক্ক বড়ই পাওয়া যায়। তিন বছর যাবত তারা ওই বাগান করেছেন। প্রতিটি চারা ক্রয় থেকে শুরু করে সেচ, সার, কীটনাশক স্প্রে, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী ও শ্রমিক ব্যয় সহ পরিপক্ক বড়ই পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বড়ই গাছে গড়ে ১ হাজার ৫শত টাকা খরচ হয়েছে। তবে রোপনের প্রথম বছর এ খরচ লাগলেও পরের বছর থেকে খরচ কম লাগে। পরে শুধু পরিচর্যা খরচ লাগে। প্রতি সিজনে গাছ প্রতি দেড় থেকে দুই মনের অধিক বড়ই পাওয়া যায়। প্রতিমন বড়ই তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি মৌসুমে বড়ই সংগ্রহ শেষে গাছের ডালপালা কেটে দিতে হয়। কাটা ডালপালা জ্বালানির চাহিদা মিটায়। এরপর গাছের গোড়ার চারদিকে কিছুটা মাটি হাল্কা খুঁচিয়ে গোবরের সার দিয়ে সেচ দিতে হয়। অগ্রহায়ণ – পৌষ মাসে আবার ফুল ও আসে। এরপর মাস দেড়েক পরে পরিপক্ক বড়ই বাজারে বিক্রি করা যায়।
অন্যান্য কৃষকরা বলেন, এখানকার আবহাওয়া ভালো থাকায় ও সঠিক পরির্চযা করার কারণে কুলের ভালো ফলন হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে কুলের ভারে অধিকাংশ ডাল গুলো শুয়ে পড়েছে। এ চাষে ঝুকি ও খরচ কম এবং লাভ বেশি। মেধা শ্রম ও সল্প পূঁজিতে বড়ই চাষ করে বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব। বড়ই চাষে উৎসাহিত করে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান , অন্যান্য ফলের তুলনায় বড়ই চাষ লাভজনক। বিভিন্ন এলাকায় বড়ই চাষ করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। তবে লালমোহনে এখন ও বানিজ্যিক ভাবে বড়ই চাষ হচ্ছে না। কেউ বানিজ্যিক ভাবে করতে চাইলে অবশ্যই সার্বিক সহায়তা করা হবে।




