মঙ্গলবার,২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, মিয়ানমারের ৮ নাগরিক আটক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত সীমান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের আট নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির আওতাধীন রেজুপাড়া বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলারসংলগ্ন গাছবুনিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

আটকরা হলেন— মংবা তংচংগা (৩৪), মংম (২০), কিংলা থুয়াইং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতানাইং (২০) এবং মংতা নাইং (২০)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের সবার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার ডেকিবুনিয়া থানার বিভিন্ন গ্রামে।

বিজিবির তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মংবা তংচংগা নামে একজন নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের কপি দেখান। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ওই নথিপত্রের তথ্যের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার দুপুরে তারা রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং পরে গাছবুনিয়া এলাকায় আশ্রয় নেন। রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল বলেন, বিজিবি আটজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তারা মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা সংগঠনের সদস্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) বলেন, প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিরা মিয়ানমারের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা সংগঠনের সদস্য কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন