কুতুপালং থেকে অপহরণের পর ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি, তিন দফায় বিক্রির তথ্য পুলিশের
কক্সবাজারের উখিয়ায় অপহৃত আট মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ১৪ এপিবিএনের বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্প। এ ঘটনায় শিশুটিকে অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ইন্সিডেন্ট রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে তৈয়বা (৩৫) নামের এক নারীর কাছ থেকে তার আট মাস বয়সী শিশু পুত্র কাদেরকে নিয়ে যান তার সাবেক স্বামী মো. রশিদ আলম (৩০)। পরে মোবাইল ফোনে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে রশিদ আলমকে অভিযোগকারীর শেডে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনি জানান, তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮)-কে সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে তসলিমা (২৫) নামের এক নারীর কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
পরে পুলিশ ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটিকে মায়মুনা আক্তার (২৯) ও তার স্বামী নুরুল আমিনের (৩৮) কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। শিশুটি ওই দম্পতির হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশকে জানানো হয়।
এরপর বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার পুলিশ পরিদর্শক সুমন ভক্তের নেতৃত্বে এএসআই মোড়ল আরিফুজ্জামানসহ পুলিশের একটি দল পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মায়মুনা আক্তার ও নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশু পুত্র কাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটিকে অপহরণ ও বিক্রির অভিযোগে মো. রশিদ আলম, রুজিনা আক্তার, তসলিমা, মায়মুনা আক্তার ও নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজুসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




