বৃহস্পতিবার,৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সমাজের সব স্তরের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে”—এই মূলভাবের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রবন্ধ

একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সমাজের সব স্তরের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে”—এই মূলভাবের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রবন্ধ।
সাম্য, মর্যাদা ও প্রকৃত উন্নয়ন
…………………………………………………
— যাদব চন্দ্র রায়
একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন কেবল আকাশচুম্বী অট্টালিকা, বিশাল শিল্পকারখানা বা জিডিপির (GDP) গ্রাফে সীমাবদ্ধ নয়। বাহ্যিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের আড়ালে যদি মানবিক উন্নয়ন বা সামাজিক সাম্য লুকিয়ে থাকে, তবে সেই উন্নয়ন ভঙ্গুর। একটি জাতির প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের সব স্তরের মানুষ—ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
সামাজিক সাম্য ও মানবিক মর্যাদা:
……………………………………………
সমাজ যখন বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে, তখন উন্নয়নের সুফল গুটিকতক মানুষের হাতে কুক্ষিগত হয়। প্রকৃত উন্নয়ন হলো সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। যখন একজন সাধারণ রিকশাচালক, কৃষক বা দিনমজুর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমান মর্যাদা পান, তখনই সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবিক মর্যাদা হলো মানুষের নিজের প্রতি এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, যা আইনের শাসনের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
শিক্ষা ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার:
…………………………………………………
উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। তবে সেই শিক্ষা হতে হবে বৈষম্যহীন। সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী, তাদের পেছনে রেখে কোনো জাতি এগোতে পারে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং অংশগ্রহণই একটি সমাজকে প্রগতির পথে নিয়ে যায়। যখন নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষদের সমান সুযোগ পায়, তখনই জাতির মেরুদণ্ড শক্ত হয়।
অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্য:
…………………………………………
অধিকার ও মর্যাদা কোনো করুণা নয়, এটি মানুষের জন্মগত প্রাপ্য। সাম্যভিত্তিক সমাজে অধিকারের সাথে সাথে দায়িত্ববোধও জাগ্রত হয়। যখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অধিকার সুরক্ষিত, তখন সে রাষ্ট্রের ও সমাজের উন্নয়নে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। বৈষম্য মানুষকে বিদ্রোহী করে, আর সাম্য মানুষকে একতাবদ্ধ করে।
উপসংহার:
……………..
পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃত উন্নয়ন হলো একটি মানবিক উন্নয়ন। একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের সব স্তরের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। যে সমাজে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ থাকে না, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই জাতিই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। সাম্য ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন