পায়রা বন্দরের জমিতে চাষাবাদ বন্ধ, উচ্ছেদে ক্ষতির শঙ্কায় তরমুজ চাষিরা

সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে চাষাবাদ ও বসতবাড়ি নিয়ে নতুন করে সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্দরের কাজে ব্যবহার না হওয়া জমিতে চাষাবাদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরের উন্নয়নকাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকায় জমি খালি করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০১৩ সালে পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, বন্দরের কাজে যতদিন জমি প্রয়োজন হবে না, ততদিন পর্যন্ত জনগণ সেই জমি ভোগদখল করতে পারবেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে বন্দরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, বন্দরের কাজে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না—এমন জমিতেও তাঁদের চাষাবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবছর জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি উচ্ছেদ কার্যক্রমের কারণে জমিতে তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও তরমুজের চারা রোপণের প্রস্তুতি চলছিল, আবার কোথাও চারা রোপণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
তরমুজ চাষিদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং তাঁদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কৃষিকাজের মৌসুমে এ ধরনের পরিস্থিতি তাঁদের জীবিকা ও পরিবারের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিগুলো অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং বন্দরের উন্নয়নকাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ কারণে অধিগ্রহণ করা জমি খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বন্দরের উন্নয়নকাজে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাষাবাদ ও ভোগদখলের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top
moors app