বালুর মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকেই বালু নেওয়া হচ্ছে এবং মান ঠিক রেখেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে বালু না নিলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ছুটিতে ছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং অন্য শ্রমিকরাও ফিরে এলে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
ঠিকাদারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজ বন্ধ থাকার কারণ শ্রমিকদের ছুটি। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় ১৫ দিন ধরে একটি বড় সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ থাকার বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না এবং এ সময়ে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না।
এ ছাড়া কাজ বন্ধ থাকার সময়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা।
হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। অথচ বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
একই জেলার অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে বাহুবল প্রকল্পের অগ্রগতি কেন পিছিয়ে রয়েছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু কাজ শেষ করলেই হবে না; সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনটি যেন দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও টেকসই হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ছুটির কথা বলা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ বন্ধের পেছনে শ্রমিক সংকটই একমাত্র কারণ কি না, নাকি বিল পরিশোধ, নির্মাণসামগ্রী, কারিগরি সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে একটি সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ টানা ১৫ দিন বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও প্রকৌশলগত তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্মাণকাজের সার্বিক মান যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
তাদের দাবি, প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, ব্যবহৃত বালু, ইট-ব্লক, রড ও কংক্রিটের মান নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী রয়েছে কি না এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত কাজগুলো প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে কারিগরি তদন্ত করা হোক।
একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, পরিশোধিত বিল, কাজের নির্ধারিত সময়সীমা এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকার কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকারি অর্থে নির্মিত একটি মডেল মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে জনগণের অর্থ, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবহার জড়িত। তাই নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ কবে থেকে পূর্ণগতিতে শুরু হয় এবং স্থানীয়দের উত্থাপিত নির্মাণমান ও তদারকির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।
