পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাঠেসরব এগিয়ে আছেন চেয়ারম্যান প্রাথী সুয়েল মিয়া

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সম্মানিত  পাগলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ,
আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও অভিনন্দন।
আজ আমি আপনাদের কাছে পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই ।আমাদের এই পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়; এটি আমাদের শিকড়, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আশা-স্বপ্নের ঠিকানা। এই ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমরা গভীরভাবে জড়িত। তাই এই ইউনিয়নের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও মানুষের জীবনমান উন্নত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, সামাজিক অঙ্গীকার এবং জনসেবার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই উন্নয়ন হবে মানুষকেন্দ্রিক, পরিকল্পিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক। আমরা এমন একটি  পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ শান্তিতে থাকবে, নিরাপদে চলাফেরা করবে, সহজে সরকারি সেবা পাবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে, যুবক কাজের সুযোগ পাবে, নারীরা সম্মান ও ক্ষমতায়ন পাবে, শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা পাবে, এবং অসহায় মানুষ রাষ্ট্রের সহায়তা পাবে।
আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রথম অগ্রাধিকার—অবকাঠামো উন্নয়ন
 পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন  যেসব কাঁচা রাস্তা এখনও মানুষের ভোগান্তির কারণ, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে ইনশাআল্লাহ। গ্রাম থেকে বাজার, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত আরও সহজ করতে রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে আমরা অগ্রাধিকার দেব। বর্ষা মৌসুমে বা বন্যার সময় যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলোর দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল-নালা পরিষ্কার ও পানি চলাচলের পথ সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার—শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাই ইউনিয়নের স্কুল, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা কাজ করব। ভবিষ্যতে ডিজিটাল শিক্ষা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং যুবসমাজের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তৃতীয় অগ্রাধিকার—স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ
আমাদের ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ সুস্থ থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাই মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি সচেতনতা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন সুবিধা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন গ্রাম গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চতুর্থ অগ্রাধিকার—কৃষি, মৎস্য ও কর্মসংস্থান পৃর্ব পাগলা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষকদের জন্য উন্নত বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সেচ সুবিধা এবং কৃষি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আমরা কাজ করব। মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা এবং নারীদের আয়বর্ধক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
পঞ্চম অগ্রাধিকার—ডিজিটাল ও সেবাবান্ধব ইউনিয়ন গঠন
আমরা চাই  পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ হোক একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও জনবান্ধব সেবা কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সেবার মান বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ষষ্ঠ অগ্রাধিকার—দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামাজিক নিরাপত্তা
সুনামগঞ্জের এই অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকিতে থাকে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। একই সঙ্গে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা আরও সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করব।
সপ্তম অগ্রাধিকার—নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি
একটি উন্নত সমাজ গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ, মাদক, সামাজিক অপরাধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলব। আমরা চাই মান্নার গাঁও ইউনিয়ন হোক শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি আদর্শ সমাজ।
প্রিয় ইউনিয়নবাসী,
আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই ইউনিয়নের উন্নয়ন একা কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ, সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ। আমি বিশ্বাস করি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে আমরা পৃর্ব পাগলা  ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আমাদের লক্ষ্য একটাই—
একটি সুন্দর, উন্নত, শিক্ষিত, স্বাস্থ্যসম্মত, কর্মসংস্থানমুখী, দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও মানবিক মান্নার গাঁও ইউনিয়ন গড়ে তোলা।
আসুন, আমরা সবাই দল-মত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করি।
মরহুম চমক আলী সাবেক চেয়ারম্যান সাহেবের ছুট ছেলে মোহাম্মদ সয়েল মিয়া
শুভকামনায়
সুয়েল মিয়া
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদ প্রাথী
৪নং  পৃর্ব পাগলা ইউনিয়ন
 দক্ষিণ, সুনামগঞ্জ

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গলাচিপায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে দুপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার, মৎস্য অফিসের দ্বায়সারা ভূমিকা পালন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার

Scroll to Top