কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সরকারি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার মোঃ ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে রৌমারী থানা পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়,রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরী হলে গোপনে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে প্রায় ৪০হাজার পিস মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট এবং ১৮টি ওজন মাপার যন্ত্র অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা স্টোর কিপার মোঃ ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে সেগুলো আত্মসাৎ করে বাইরে সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সোমবার সন্ধ্যার পর রৌমারী থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার একটি পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে স্টোর কিপার ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে রৌমারী থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সরকারি ওষুধ ও যন্ত্রপাতি অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রৌমারী থানা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সামগ্রী আত্মসাৎ করা হলে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রৌমারী উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে আরও বড় ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




